প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ইতিবাচক: ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ইতিবাচক উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ করেছেন অত্যন্ত ভালো কথা। কিন্তু সেই সঙ্গে জনগণের প্রশ্ন, আমাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেই সমস্যাগুলো সম্পর্কে তিনি কথা বলছেন না। আমরা তিস্তার পানির হিস্যা এখনও পাইনি।

শুক্রবার (২৫ মে) রাজধানীর ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, যেদিন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছিল তখনই বলেছিল এখন শুধু সময়ের ব্যাপার যে আমরা তিস্তা চুক্তি করতে পারবো।

অথচ দীর্ঘ ৯ বছরেও তিস্তার একফোঁটা পানির ব্যাপারেও কোনো চুক্তি হয়নি। শুধু তিস্তা নয়, অভিন্ন ১৫৮টি নদী রয়েছে সেই নদীগুলোর পানি বণ্টনের কোনো চুক্তি হয়নি।

অথচ দেখা যায়, সামরিক চুক্তি হচ্ছে। সীমান্তে মানুষ হত্যার চুক্তি বাদ দিয়ে ট্রানজিট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন বন্দর নির্মিত হচ্ছে।

‘আমরা অবশ্যই একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সংযোগ স্থাপন হবে তার পক্ষে। কিন্তু একই সঙ্গে তার বিনিময়ে আমরা কি পাচ্ছি সেটাও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।’

এই সরকার নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতকাল নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বিধি পরিবর্তন করেছে। সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিধান ছিল না।

তাদের সেই সুযোগ দিয়ে আইন করেছে। আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

‘সরকার খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখে আগামী নির্বাচন করতে চায়। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, খালেদা জিয়া এই দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক, তাকে বাদ দিয়ে এদেশে কোনো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

যারা বিএনপি ও ২০ দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের চিন্তা করছেন তারা অলীক চিন্তা করছেন। এই দেশের মানুষ আর একবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না।’

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠতে জানে, প্রতিবাদ করতে জানে।

মানুষ প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যদিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিঃসন্দেহে দমন-নিপীড়নের অবসান ঘটাবে। জুলুমবাজ সরকারের পতন ঘটাবে। একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠন করবে।

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. টিআইএম ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ) চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রকিব, মুসলিম লীগ সভাপতি এএইচএম

কামরুজ্জামান খান, মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, কল্যাণ পার্টি মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, খেলাফত মজলিশ যুগ্ম মহাসচিব শেখ গোলাম আজগর, ডিএল সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি,

লেবার পার্টি (একাংশের) মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, বিজেপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ,

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতী মুহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামিক পার্টি সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ মুছা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.