ক্ষমতায় যেতে সাহায্য ভিক্ষা চাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

দলের বেগতিক অবস্থায় রাস্তার আন্দোলনকে বাদ দিয়ে মৌখিক আন্দোলনকে চালিয়ে নেওয়ার জন্য দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে তাই অন্য দলগুলোর কাছে সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অবস্থাটা এমন যে নিজের ঘরের চাল ঠিক রাখার জন্য অন্যের চালের খড় টানার চেষ্টা করছেন মির্জা ফখরুল। ক্ষমতায় যাওয়ার স্বাদ মেটাতে এবার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে লবিং শুরু করেছেন মির্জা ফখরুল।

১৯ মে রাজধানীর লেডিস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এই লড়াইয়ের কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, যে লড়াই চলছে সেটি বিএনপির একার নয়। সকল রাজনৈতিক দলের। গণতন্ত্র, মানুষের কথা বলার অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সকল রাজনৈতিক দল ও সকল মতের মানুষকে পাশে চাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সকল দলকে সাথে নিয়ে সরকার গঠন করে তাদের উপর ছড়ি ঘোরানোর মতো দিবাস্বপ্ন দেখছেন তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল। তারেক রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে দিনের পর দিন বৈঠক করছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত নালিশ দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপি তার সহমনা দলগুলোকে নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য চাচ্ছে। কারণ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার মতো সাহস, সামর্থ এবং সক্ষমতা বিএনপির মতো দলের নেই। তাই অন্য ছোট ছোট দলগুলোর কাছে ধর্ণা দিচ্ছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সোশ্যাল সাইটগুলোতে।

মির্জা ফখরুল যে লড়াইয়ের আহ্বান জানাচ্ছেন তা নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। সারোয়ার আলম নামের এক ফেসবুক ইউজার লিখেছেন, একটা গণতান্ত্রিক, উন্নয়নশীল দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের আহ্বান অহেতুক এবং অযৌক্তিক।

শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা ও সৃষ্টিশীল নেতৃত্বে যখন বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুরন্ত গতিতে ছুটছে তখন গুটিকতক রাজনীতিক, যারা শুধু উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব বেসামাল কথাবার্তা বলে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছেন।

মতিউর রহমান নামের একজন ফেসবুকার লিখেছেন, আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি সমালোচনা সহ্যকারী দল। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগই গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সমানাধিকার, মানবাধিকার, সুস্থ রাজনীতির আদর্শে বিশ্বাসী।
আওয়ামী লীগ বার বার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে।

সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অধিকার আদায়ের জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কাজ করে আসছিল। আজও সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এগিয়ে চলছে জনগণের ভালবাসা নিয়ে।

মির্জা ফখরুলের এমন নীতি বিবর্জিত বক্তব্যের কঠোর সমালেচনা করে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সর্বদাই দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়।

দেশকে বদনাম করতে চায়। যে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে, সরকারের সমালোচনা করতে পারে সেই দেশে নতুন করে গণতন্ত্র চাওয়ার অর্থটা আমার কাছে দূরভিসন্ধিমূলক মনে হয়। এখানে গোপন পরিকল্পনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অন্য রাজনৈতিক দলের সাহায্য চাচ্ছেন।

অথচ যখস ক্ষমতায় ছিলেন তখন তো ভিন্নমত, ভিন্নদলকে তো প্রাধান্য দেননি। আজকে ক্ষমতা হারিয়ে উপলব্ধি হচ্ছে নিজ ভুলের। জনগণ বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসন দেখেছে।

বাংলার মানুষ কোন দিনই এই বিএনপি-জামায়াত অপশক্তিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দ্বিতীয়বার আর ভুল করবে না। বিএনপি আজ ছিন্নভিন্ন একটি দলে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অন্যের কাছে ভিক্ষা চেয়ে বেড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.