কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান : যম হিসেবে মাঠে র‌্যাব ও ডিবি

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে যম হিসেবে মাঠে রয়েছে র‌্যাব ও ডিবি। চলতি মাসে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জেও দিন রাত এ অভিযান অব্যাহত রেখেছে র‌্যাব, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

সরকারের হাইকমান্ডের নির্দেশে ঘোষণা পেয়ে দেশব্যাপী মাদক নির্মুলে অভিযান শুরু করেছে তারা। এর আগেও একাধিকবার ঘোষণা দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান হয়েছে। তবে এবারের অভিযান ভিন্ন। এবারের অভিযানে দৃষ্টি মাদক ব্যবসার মূল হোতা ও গডফাদারদের দিকে। মাদক নির্মুলে এবারে একের পর এক বন্দুকযুদ্ধ ও ক্রস ফায়ারের ঘটনা ঘটলেও কিশোরগঞ্জে তেমন কোন ঘটনা না ঘটে নি।

তবে একমাসে প্রায় তিন শতাধিকেরও বেশী মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী গ্রেফতার হয়েছে। এদের বিভিন্ন মেয়াদে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত ও তাদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত মামলা করেছে পুলিশ। এছাড়াও এসব অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য।

এদিকে কিশোরগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে এরকম অভিযানকে স্বাগতম জানিয়েছে সুশীল সমাজসহ সাধারণ মানুষ। তারা জানান, কিশোরগঞ্জ অল্প সময়ের মধ্যে মাদকের রাজ্যে পরিনত হতে চলেছিল। উঠতি বয়সী তরুণরাই এতে বেশী আকৃষ্ট হয়েছিল। আর ব্যবসায় জড়িত সমাজের কিছু প্রভাবশালী মানুষ। কিশোরগঞ্জের ইতিহাসে বিরল অভিযান চলছে এখন। যুবক সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষাসহ মূল হোতাদের ধরার তাগিদ দেন তারা।

র‌্যাব-১৪ (কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প) সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে মাদক বিক্রেতাদের ব্যাপারে আগে কম অভিযোগ আসলেও গত কয়েক মাসে অভিযোগের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। আর গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১০০০ পিস ইয়াবা ও ৩ কেজি গাজাসহ ৫১জন খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত করা হয়। অতীত রের্কড ও অভিযোগের ভিত্তিতে আমদানিকারক, মজুতকারক, সরবরাহকারী, পাইকারি বিক্রেতা ও সেবনকারীদের আলাদা আলাদা ভাগ করে সবাইকে আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করছে র‌্যাব। এতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৪ এর কর্মকর্তা লে. শোভন খান, (এস) বিএন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাব বরাবরই সোচ্চার। র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য র‌্যাবকে নির্দেশ দেন।

চারঘাটের সারদায় পুলিশ অ্যাকাডেমির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও প্রধানমন্ত্রী একই নির্দেশনা দেন। তাই মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঢাকা থেকে নির্দেশনা আসে। সে মোতাবেক কাজ শুরু করেছেন তারা। মাদকদ্রব্য নির্মূলের অংশ হিসেবে র‌্যাব-১৪ এর বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে।

এছাড়াও প্রত্যেক উপজেলার গডফাদার ও মূল হোতাদের তালিকা র‌্যাব চূড়ান্ত করেছে। তাদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেটের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ বলেন, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিকের মত ছোট বড় মাদকবিক্রেতা ও মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো অন্তত ১-২ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হচ্ছে। কিশোরগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.